এজ কম্পিউটিং (Edge Computing) | Ahsan Tech Tips

 

এজ কম্পিউটিং (Edge Computing)

 এজ কম্পিউটিং হল একটি বিতরণ সিস্টেম পদ্ধতি যা প্রাথমিক ডেটা সেন্টার থেকে ডেটা উৎসে কিছু স্টোরেজ এবং কম্পিউটিং ক্ষমতা স্থানান্তর করে। সংগৃহীত ডেটা স্থানীয়ভাবে গণনা করা হয় (যেমন, একটি কারখানার মেঝেতে,একটি দোকানে বা একটি শহর জুড়ে) প্রক্রিয়াকরণ (processing) এবং বিশ্লেষণের জন্য কেন্দ্রীভূত ডেটা সেন্টারে পাঠানোর পরিবর্তে। এই স্থানীয় প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট বা ডিভাইসগুলি সিস্টেমের প্রান্তের (edge) প্রতিনিধিত্ব করে,যেখানে ডেটা সেন্টার হল এর কেন্দ্র। প্রান্তে গণনা করা আউটপুট পরবর্তী প্রক্রিয়াকরণের জন্য প্রাথমিক ডেটা সেন্টারে ফেরত পাঠানো হয়। এজ কম্পিউটিংয়ের উদাহরণগুলির মধ্যে রয়েছে হাতের কব্জির গ্যাজেট বা কম্পিউটার যা ট্র্যাফিক প্রবাহ বিশ্লেষণ করে।

 ইতিহাস

১৯৯০-এর দশকে কন্টেন্ট ডেলিভারি নেটওয়ার্কগুলিকে বর্ণনা করার জন্য ব্যবহার করা শুরু হয়েছিল - ব্যবহারকারীদের কাছাকাছি অবস্থিত সার্ভার থেকে ওয়েবসাইট এবং ভিডিও কন্টেন্ট সরবরাহ করার জন্য এগুলি ব্যবহৃত হত। ২০০০-এর দশকের গোড়ার দিকে, এই সিস্টেমগুলি অন্যান্য অ্যাপ্লিকেশন হোস্টিংয়ে তাদের পরিধি প্রসারিত করে, যার ফলে প্রাথমিক কম্পিউটিং পরিষেবার সূচনা হয়। এই পরিষেবাগুলি ডিলার খুঁজে বের করা, শপিং কার্ট পরিচালনা করা, রিয়েল-টাইম ডেটা সংগ্রহ করা এবং বিজ্ঞাপন স্থাপনের মতো কাজ করতে পারে।

 Edge Computing এর বৈশিষ্ট্য

 ১। লোকেশন ভিত্তিক প্রক্রিয়াকরণ: ডেটা উৎসের নিকটবর্তী অবস্থানে তথ্য প্রক্রিয়াকরণের ক্ষমতা।

২। লেটেন্সি কমানো: ডেটা স্থানান্তর এবং প্রক্রিয়াকরণের জন্য কম সময় লাগায়, যা দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করে।

৩। ব্যান্ডউইথ সাশ্রয়: কেন্দ্রীয় ক্লাউডের সাথে যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তা হ্রাস করে, ফলে ব্যান্ডউইথের ব্যবহার কমে।

৪। নিরাপত্তা বৃদ্ধি: স্থানীয়ভাবে প্রক্রিয়াকৃত ডেটা, কেন্দ্রীয় সার্ভারের পরিবর্তে, স্থানীয় ডিভাইসে থাকে, যা ডেটার সুরক্ষা বাড়ায়।

Edge Computing এর প্রয়োজনীয়তা

 ১। Real-Time Processing: অনেক অ্যাপ্লিকেশন যেমন অটোমেটেড যানবাহন, স্মার্ট সিটি, এবং শিল্প 4.0-এর জন্য রিয়েল-টাইম ডেটা প্রক্রিয়াকরণ অপরিহার্য।

 ২। IoT Devices: আইওটি ডিভাইসের দ্রুত বৃদ্ধি এবং তাদের দ্বারা উত্পন্ন বিশাল পরিমাণ ডেটার কার্যকরী ব্যবস্থাপনা। Edge Computing এই ডেটা স্থানীয়ভাবে প্রক্রিয়াকরণে সহায়ক।

 ৩। Low Latency Applications: গেমিং, ভিডিও স্ট্রিমিং এবং অনলাইন ট্রেডিং-এর মতো প্রয়োগগুলির জন্য লেটেন্সি কমানো অপরিহার্য।

 ৪। Bandwidth Optimization: বড় ডেটা সেট ক্লাউডে পাঠানোর পরিবর্তে স্থানীয়ভাবে প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে ব্যান্ডউইথ সাশ্রয় করা।

 ৫। Security and Privacy: সুরক্ষা এবং গোপনীয়তার কারণে স্থানীয়ভাবে ডেটা প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

 ৬। Scalability: Edge Computing কোম্পানিগুলিকে তাদের নেটওয়ার্ক প্রসারিত করতে সাহায্য করে, যেখানে ডেটা স্থানীয়ভাবে প্রক্রিয়া করার ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আরও ডিভাইস এবং নোড যুক্ত করা যায়।

 Edge Computing এর সুবিধা

 ভার্চুয়ালি ডাটা আপলোড এবং ডাউনলোড করা যায়।

২। অপারেটিং খরচ ফিজিক্যাল কম্পিউটারের থেকে কম। কারণ এখানে অল্প টাকায় আমরা অনেক হাই কনফিগারেশনের কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারি।

৩। নিজস্ব হার্ডওয়্যার লাগে না ফলে বিপুল পরিমাণ অর্থ বেঁচে যায়।

৪। হার্ডওয়্যার যেমন অনেক উন্নত থাকে তেমনি নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট হওয়ার কারণে সিস্টেম আপটুডেট থাকে। এতে সফটওয়্যারগত সিকিউরিটি নিয়ে চিন্তা করতে হয় না।

৫। ২৪/৭ আপ অ্যান্ড রানিং থাকায় যে কোনো প্রয়োজনে সবসময় এটি ব্যবহার করা যায়।

৬। সার্ভিস প্রভাইডার নিজে ম্যানেজ করে জন্য ইউজারকে কনফিগারেশন বা এই জাতীয় কিছু নিয়ে চিন্তা করতে হয় না।

 Edge Computing এর অসুবিধা

 ১। ক্লাউডে ডাটা কোথায় স্টোর হয় তা একজন সাধারণ ইউজার জানে না।

২। সিকিউরিটি যেহেতু অন্যের দ্বারা পরিচালিত হয় এতে ডাটা চুরি হওয়ার ভয় থাকে।

৩। আপনার যদি অল্প কিছু কাজের জন্য ক্লাউড ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়ে তবে এটি আপনার জন্য নয় কারণ ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যয়বহুল।

 Edge Computing এর চ্যালেঞ্জ

 ১। নিরাপত্তা ঝুঁকিঃ Edge Computing ডিভাইসগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, এজ ডিভাইসগুলি সরাসরি ইন্টারনেটে সংযুক্ত থাকে এবং সাইবার হামলার ঝুঁকি থাকে।

 ডেটা সিঙ্ক্রোনাইজেশনঃ Edge Computing ডিভাইসগুলির মধ্যে ডেটা সিঙ্ক্রোনাইজেশন নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, বিভিন্ন ডিভাইস থেকে ডেটা সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াকরণ করা হয়।

 শক্রি ব্যয়ঃ আইওটি ডিভাইসগুলির জন্য এজ কম্পিউটিং ব্যবহারের সময় শক্তি ব্যয় একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, ডিভাইসগুলিকে ক্রমাগত কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে হবে।

 উদাহরণ

১। স্মার্ট শহর: ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং জনসাধারণের নিরাপত্তার জন্য সেন্সর ডেটা স্থানীয়ভাবে প্রক্রিয়াকৃত হয়।

 ২। স্বায়ত্তশাসিত যানবাহন: রিয়েল-টাইম সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ডেটা স্থানীয়ভাবে বিশ্লেষণ করা হয়।

 ৩। ফ্যাক্টরি অটোমেশন: উৎপাদন ডেটা স্থানীয়ভাবে প্রক্রিয়া করে দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করা হয়।

 ৪। স্বাস্থ্যসেবা: স্বাস্থ্যসেবায় Edge Computing একত্রে কাজ করলে রোগীর অবস্থার তাৎক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। এর ফলে রোগী দ্রুত সেবা পায় ও চিকিৎসার মান বৃদ্ধি পায়।

 ৫। পরিবহন:পরিবহন ক্ষেত্রে Edge Computing প্রযুক্তি ব্যবহার করে ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট ও যানবাহনের নিরাপত্তা বাড়ানো সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ, স্বয়ংক্রিয় যানবাহনগুলির ক্ষেত্রে এজ কম্পিউটিং রিয়েল-টাইম সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে।


কোন মন্তব্য নেই

Dizzo থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.